সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
“দুর্নীতির জালে বন্দী গ্রামীণ সড়ক” সংসদে ফখরুলের তোপ   সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোল   কোল্ড স্টোরেজে ভয়াবহ আগুন চট্টগ্রামে, নিয়ন্ত্রণে ছয় ইউনিট   মাসুদ–খালেদকে ‘দুষ্কৃতকারী’ আখ্যা চিফ প্রসিকিউটরের   স্বাধীনতার সূচনা নিয়ে অলি আহমদের মন্তব্যে তোলপাড়   “এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব”—স্মৃতিসৌধে বিরোধীদলীয় নেতা   কড়া হুঁশিয়ারি ফখরুলের: “রাডার দিয়ে নজর রাখছি”  স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে জামায়াতের ২ দিনের কর্মসূচি প্রকাশ  মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ফুটবলার, এবার সংসদের স্পিকার  অসুস্থ মির্জা আব্বাস, ভর্তি এভারকেয়ার হাসপাতালে 

সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোল  

মার্চ 30, 2026
সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোল  

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। 

রোববার এ প্রস্তাব নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফায় তীব্র বিতর্ক, হইচই ও হট্টগোল হয়। কিছুক্ষণের জন্য সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

পরে অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সিদ্ধান্ত দেন যে, বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আগামী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে। 

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট করেছিল এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটে তা পাস হয়। এই সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি ও তার জোটের সংসদ সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় পরিষদ গঠিত হয়নি। 

তিনি বলেন, “জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কখনোই কাম্য নয়।” তাই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে আলোচনার জন্য অন্য সব কার্যক্রম মুলতবি রাখার আহ্বান জানান। 

প্রথম দফায় বিতর্কের পর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রস্তাবটিকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, আলোচনার আগে সংসদ সদস্যদের সামনে সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট অধ্যাদেশসহ প্রয়োজনীয় দলিল রাখতে হবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য প্রস্তাবের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে সংসদে হট্টগোল দেখা দেয়। 

ডেপুটি স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: মঙ্গলবার দিনের শেষে দুই ঘণ্টা বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। 

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এখানে সংবিধান সংশোধন করার জন্য আসিনি, আমরা এসেছি সংবিধান সংস্কার করার জন্য।” 

ঈদের ছুটির পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে এই উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক দেখা গেল। আগামী মঙ্গলবারের আলোচনায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন