ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মামুনুর রশীদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে দলের ৯ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৪ নেতা এবং কানাইঘাট উপজেলার ৫ নেতা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা:
- জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম
- যুগ্ম সম্পাদক মাসুক আহমদ
- সদস্য রিপন আহমদ
- পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমদ
- কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়েছ আহমদ
- সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুজ্জামান পারভেজ
- কোষাধ্যক্ষ আবুল বাশার
- লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম
- রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেন নিমা
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন, এই বহিষ্কারাদেশ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেওয়া হয়েছে।
প্রেক্ষাপট:
সিলেট-৫ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেয়নি। দলটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক–কে জোটের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এরপর বিএনপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুকের অনুরোধে এবং সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী–এর সুপারিশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরিফুল হক চৌধুরী লিখিত সুপারিশে বলেছেন, সিলেট-৫-এ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তাঁর নিজের আসন সিলেট-৪-এ ক্ষতি হবে। কেন্দ্রীয় সভাপতির আসনে কিছু বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় জমিয়ত নেতারা ক্ষুব্ধ।
এই বহিষ্কারাদেশ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ও জোটের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।