গত বৃহস্পতিবার রাতে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিকশাচালক রমজান মুন্সি মারা যান। এর আগে সংঘর্ষে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন রাজমিস্ত্রি রমজান কাজী, মোবাইল ব্যবসায়ী সোহেল রানা, পোশাক ব্যবসায়ী দীপ্ত সাহা ও দোকানকর্মী ইমন তালুকদার।
রমজানের মৃত্যুর পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫–এ। রমজান মুন্সির ভাই জানান, তিনি সকালে রিকশা নিয়ে বের হন এবং সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চারজনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন, কিন্তু এই চার মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হবে। তবে নিহতদের পরিবার হতাশ ও নিরুৎসাহিত; কেউই মামলা করেননি। যেমন রমজান কাজীর মামা বলেন, “আমরা থানায় গেলাম, ঢুকতেই দিল না। হাসপাতালে গেলাম, সেখানেও দাঁড়াতে দিল না।”
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে সদর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দাখিল হওয়া মামলায় ১৫৭ জনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সঙ্গে আরও কয়েক হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি।
- সদর থানায় গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে গোপীনাথপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ আহমদ বিশ্বাস মামলা করেন।
- কাশিয়ানী থানায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধের অভিযোগে ৭০ জনের নামসহ আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
- কোটালীপাড়ায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় ১ হাজার ৫০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জারি থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে নতুন করে শনিবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর রাখা হয়।
তবে কারফিউর মাঝেও শহরের জীবন কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সকাল থেকে ইজিবাইক, রিকশা, মাহিন্দ্রা চলাচল করছে; বাস ও দূরপাল্লার যানবাহনও রাস্তায় ফিরেছে। বাজারঘাটে দেখা যাচ্ছে জনসাধারণের উপস্থিতি।
রিকশাচালক উজ্জ্বল হাওলাদার বলেন, “পেটের দোষে রাস্তায় বের হয়েছি। ঘরে চাল নেই। ঘরে বসে থাকলে পেটে ভাত যাবে না।”
একদিকে কারফিউ, অন্যদিকে পেটের দায়—গোপালগঞ্জ যেন এখন সহিংসতা ও মানবিক বাস্তবতার দ্বৈত টানাপড়েনে পড়ে আছে। মামলা, গ্রেপ্তার আর মৃত্যুর ভিড়ে একটি বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই রক্তপাতের দায়ভার কে নেবে?