ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমন দাবি তুলেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর এই অভিযোগকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বুধবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপকে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করছেন নেতানিয়াহু। কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আলোচনায় নেতানিয়াহুর অবস্থান নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন নেতানিয়াহু ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়ে চলেছেন।
এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপে উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেও উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ইসরায়েল সরাসরি এই আলোচনার অংশ না হলেও, দেশটি বরাবরই ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে আসছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ উল্লেখ করে বলেছে, দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথে এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ওমান। মাসকটে এখন পর্যন্ত পাঁচটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান চায়, তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। বিনিময়ে তারা কিছু পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে রাজি, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের অধিকার তারা বজায় রাখতে চায়।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময় সৃষ্টি হয়েছে, যখন ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসন ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সেই আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে, তবে তাতে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠছেন নেতানিয়াহু—এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।