জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে একটি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসার জন্য। এ দাবি তিনি ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের সহযোগিতার জন্যও তিনি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই পক্ষ বাংলাদেশে চলমান সংস্কার কার্যক্রম, নির্বাচন প্রস্তুতি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকার শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জানতে চেয়েছেন—বাংলাদেশে সংস্কার কেমন চলছে, কীভাবে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা যাবে, নির্বাচনের প্রস্তুতি কোথায় পৌঁছেছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি না, এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি কেমন। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি অবাধ নির্বাচন এবং মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার চায়। তারা চান যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দুর্বৃত্তায়ন বা চাঁদাবাজির রাজনীতি পুনরায় ফিরে না আসুক। দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে তারা দৃঢ় অবস্থানে আছে। জামায়াতের গণতন্ত্রের প্রতি অবস্থান মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা করেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতি তারা অনুসরণ করে বলে জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও উন্নত হবে বলে তারা আশাবাদী। জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেছেন।
তাহের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের ফলে বাংলাদেশের বিশেষ করে গার্মেন্টস খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ কারণে জামায়াতের আমির রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেছেন, শুল্ক কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে যেন তারা বিবেচনা করেন, যাতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি অব্যাহত রাখা যায়।
মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে আজকের আলোচনা হয়নি এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট যে, যদি এটি মানবতাবিরোধী, সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হয়, তাহলে তারা তা কঠোরভাবে বিরোধিতা করবে। তবে যদি এটি ইতিবাচক কাজের জন্য হয়, তবে সেটি গ্রহণযোগ্য।
আইনশৃঙ্খলা বা রাজনৈতিক হামলার বিষয়ে আজকের বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি বলেও তিনি জানান। ভারত বা অন্য কোনো দেশের বিষয়ে সরাসরি আলোচনা হয়নি, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা এবং যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্ভব ও প্রয়োজন সেখানে একমত পোষণ করেছেন।
নির্বাচন বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি এবং এটিকে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে তারা মন্তব্য করেছেন। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগিতা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তাহের উপস্থিত ছিলেন।