সোমবার ২ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
ইরানে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষোভ, বিশ্বশান্তির আহ্বান  সামনের চাকা সরকারি, পেছনের চাকা বিরোধী: জামায়াত আমিরের তুলনামূলক বক্তব্য  ৫ আগস্ট ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছু গোপন রেখেছেন: জামায়াত আমির  অভিজ্ঞ ও নবীনদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটি  বিএনপি নেতাদের হাতে ছয় সিটির প্রশাসনের দায়িত্ব  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তুতি, সারজিস হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপি কমিটি  আওয়ামী লীগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইনের পথেই: মির্জা ফখরুল  মনোনয়নবঞ্চিত কাইয়ুম চৌধুরীর নতুন দায়িত্ব সিলেট সিটির প্রশাসক  তেজগাঁও অফিসে এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় তারেক রহমানের  মার্চের মাঝামাঝি সংসদের প্রথম অধিবেশন, ইঙ্গিত সালাহউদ্দিনের 

ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা ব্যর্থ, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এফ–৩৫ বিধ্বস্ত 

আগস্ট 28, 2025
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা ব্যর্থ, ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এফ–৩৫ বিধ্বস্ত 

গত ২৮ জানুয়ারি আলাস্কার আইয়েলসন বিমানঘাঁটিতে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। বিমানটির পাইলট প্রায় ৫০ মিনিট ধরে লকহিড মার্টিনের পাঁচজন প্রকৌশলীর সঙ্গে কনফারেন্স কলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ মুহূর্তে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে ইজেক্ট করতে বাধ্য হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি আকাশ থেকে ঘূর্ণি খেয়ে রানওয়েতে আছড়ে পড়ে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোজ ও প্রধান ল্যান্ডিং গিয়ারের হাইড্রোলিক লাইনে বরফ জমে যাওয়ায় গিয়ার অকেজো হয়, যা দুর্ঘটনার মূল কারণ। 

উড্ডয়নের পর পাইলট ল্যান্ডিং গিয়ার ভাঁজ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন, এবং গিয়ার নামানোর চেষ্টায় তা একদিকে আটকে যায়। এর ফলে বিমানটি এমন অবস্থায় পৌঁছে যেন মাটিতে নামানো হয়েছে। পাইলট দুইবার ‘টাচ অ্যান্ড গো’ অবতরণের চেষ্টা করেন, কিন্তু গিয়ার সোজা না হওয়ায় ব্যর্থ হন, এবং শেষ পর্যন্ত ল্যান্ডিং গিয়ার পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেন্সর তখন ভুলভাবে দেখায় যে বিমানটি মাটিতে রয়েছে, এবং জেটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। তদন্তে প্রকাশ, হাইড্রোলিক সিস্টেমের এক-তৃতীয়াংশ তরল পানি ছিল, যা মাইনাস ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় জমে যায়, এবং পাইলটের সিদ্ধান্ত, কনফারেন্স কলের পরামর্শ ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকরণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দুর্ঘটনাকে ত্বরান্বিত করে। 

দুর্ঘটনার নয় দিন পর একই ঘাঁটির আরেকটি বিমানে অনুরূপ সমস্যা দেখা দেয়, তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করে। তদন্তে লকহিড মার্টিনের উপর দায় চাপানো হয়েছে, অভিযোগ, খরচ কমানোর চেষ্টায় উৎপাদনের মান বজায় রাখা হয়নি। ২০২১ সালে একটি এফ-৩৫-এর দাম ছিল ১৩৫.৮ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে ৮১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। 

গত নভেম্বরে সরকারি দক্ষতা বিভাগের প্রধান ইলন মাস্ক এফ-৩৫ প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এক্স-এ লিখেন, বিমানটির নকশা শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ, কারণ এটি একাধিক কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, ফলে জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। মাস্ক দাবি করেন, ড্রোনের যুগে পাইলটসহ যুদ্ধবিমান অপ্রচলিত, যা শুধু পাইলটদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে। মার্কিন হিসাবরক্ষণ দপ্তর জানায়, এফ-৩৫ প্রোগ্রাম ২০৮৮ সাল পর্যন্ত চলবে, যার মোট খরচ ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন