আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিএনপি এবার সবচেয়ে বড় ও স্মার্ট প্রচার কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে। গতকাল সোমবার রাতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
মূল সিদ্ধান্ত: ৭টি বিষয়ভিত্তিক রঙিন পোস্টার + একটি পূর্ণাঙ্গ বই আকারের ইশতেহার
৭টি বিষয়ভিত্তিক পোস্টারে যা থাকছে
- নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন – হেলথ কার্ড, মাতৃত্ব ভাতা, নারী উদ্যোক্তা ফান্ড
- শিক্ষা বিপ্লব – বিনামূল্যে শিক্ষা, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ
- স্বাস্থ্যসেবা – গ্রামে-গঞ্জে হাসপাতাল, ফ্রি চিকিৎসা কার্ড
- কৃষি ও কৃষক – কৃষি কার্ড, সার-বীজের দাম অর্ধেক, ধানের ন্যায্য মূল্য
- যুব কর্মসংস্থান – ১ কোটি নতুন চাকরি, স্টার্টআপ ফান্ড, আইটি ট্রেনিং
- ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু অধিকার – কওমি মাদ্রাসা উন্নয়ন, দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষা ট্রাইব্যুনাল
- প্রবীণ ও সামাজিক সুরক্ষা – ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি
“ইশতেহার বই আকারে হবে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষ পড়বে না। তাই এই ৭টি পোস্টারে আমরা ইশতেহারের ‘হৃদয়’টা সরাসরি মানুষের হাতে তুলে দেব” — দলীয় একজন শীর্ষ নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
ইশতেহারের মূল স্তম্ভ তিনটি
- বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সনদ
- শ্রেণি-পেশাভিত্তিক প্রতিশ্রুতি
ইশতেহারে যা থাকছে (বড় বড় হেডলাইন):
- নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন
- নির্বাচন কমিশন, দুদক, মানবাধিকার কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ
- সংখ্যালঘু সম্পত্তি রক্ষায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
- কওমি মাদ্রাসার সনদের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি, ইসলামিক গবেষণা তহবিল
- ১ কোটি যুবকের জন্য কর্মসংস্থান, বিদেশে নতুন শ্রমবাজার
- কৃষকদের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক, কৃষি কার্ড
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন: “এবারের ইশতেহার হবে মানুষের জন্য, মানুষের ভাষায়। যাতে প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।”
তফসিল ঘোষণার পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। তার আগে এই ৭টি বিষয়ভিত্তিক পোস্টার দেশের প্রতিটি দেওয়ালে, প্রতিটি বাজারে, প্রতিটি চায়ের দোকানে ঝুলবে।
বিএনপির বার্তা স্পষ্ট: “এবার শুধু ভোট চাই না — মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে এসেছি।”