দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়, যিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান। এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা চেয়ে রাজনীতিবিদদের আবেদন ও খোঁজখবর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা, গানম্যান বা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন রাজনীতিবিদের আবেদন এসেছে, এবং সংখ্যাটি দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া প্রায় ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তা ও লাইসেন্স একসঙ্গে চেয়েছেন। অনেকে খোঁজ নিচ্ছেন আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন চেয়ে ১৭ ডিসেম্বর আবেদন করা হয়েছে। একইভাবে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ প্রমুখের জন্য।
বিএনপি মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মেহেরপুর-১ এর মাসুদ অরুণ, গোপালগঞ্জ-১ এর সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ এর এস এম জিলানী, ঢাকা-৪ এর তানভীর আহমেদ (রবিন), পাবনা-৩ এর হাসান জাফির তুহিনসহ অনেকে গানম্যান বা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (হিরু)ও আবেদন করেছেন।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে, যদিও কয়েকজন এর আগেও আবেদন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহে বৈঠক করে কাকে কী ধরনের নিরাপত্তা বা লাইসেন্স দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবে।
জামায়াতের প্রচার প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও নির্বাচনকে সামনে রেখে আমিরের নিরাপত্তার জন্য আবেদন করা হয়েছে; পর্যায়ক্রমে অন্য নেতাদের জন্যও করা হবে।
কর্নেল অলি আহমদ বলেন, মাসখানেক আগে আবেদন করেও কোনো সাড়া পাননি। জোনায়েদ সাকি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য হুমকির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ইউনুস আহম্মেদ বলেন, পরিবেশ স্বাভাবিক নয়, প্রশাসন দুর্বল—বিশিষ্টজনদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, ঢালাওভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দিলে অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। চিহ্নিত ঝুঁকি থাকলে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে; ঝুঁকি সমীক্ষা আগেই করা উচিত ছিল। নিরাপত্তা অস্ত্রে নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতায় আসে।
১৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে ১১ ডিসেম্বর; ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি, প্রচার শুরু ২২ জানুয়ারি। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার প্রশ্ন জোরালোভাবে উঠেছে।