আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার থেকে শুরু করে মেয়র এবং সর্বশেষ সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার পর এবার বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এটি তাঁর প্রথম সংসদ সদস্যতা।
আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আরিফুল হক চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোবাইল ফোনে আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলব। দল তৃণমূলের একজন কর্মীকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, তার প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। সবার দোয়া চাইছি।’
আরিফুল হক চৌধুরী এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন। পরে তিনি টানা দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন তৃণমূলের কর্মী থেকে নেতা হয়ে ওঠা আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত খুশি। আশা রাখছি, সিলেটের উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন।’
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আরিফুল হক চৌধুরী প্রথমে সিলেট-১ (সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা ও সিলেট সদর উপজেলা) আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে সেখানে মনোনয়ন পান বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। পরে দলের নির্দেশে তিনি সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা) আসনে নির্বাচন করে জয়ী হন।
বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন আরিফুল হক চৌধুরী। এর আগে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।
২০০৩ সালে আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। পরে ২০১৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে প্রথমবার মেয়র হন। ২০১৮ সালেও তিনি মেয়র নির্বাচিত হন।