বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ‘পুশ ইন’-এর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। দলটি এসব ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলটির নেতারা এ দাবি জানান। সীমান্তে বিএসএফের কথিত পুশ ইন, বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম (বাবলু) অভিযোগ করেন, ভারত সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এনআরসিকে কেন্দ্র করে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বিতাড়নের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে এবং সীমান্তে প্রতিদিন বহু মানুষ জড়ো করে তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনোভাবেই পুশ ইন গ্রহণ করা উচিত নয় এবং ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।
সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে শেখ রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মো. নাহিদ বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ভুলে যায়। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের মতামত ও ভাষা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।