আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। রাজধানীর বিজয়নগরে বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিতব্য এই কর্মসূচিতে জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
এছাড়া একই দাবিতে আগামী ৪ জুলাই সারা দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১–দলীয় ঐক্য।
সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। এর আগে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় শিথিলতার কারণে দেশে আবারও ‘ফ্যাসিবাদের উত্থানের পদধ্বনি’ শোনা যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলা ও উত্তেজনার ঘটনা বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ১১ দলের নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিজয়নগরের সমাবেশ থেকে গুম, খুন ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি সরকারের ব্যর্থতা, নৃশংসতার সংস্কৃতি এবং কথিত ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
৪ জুলাইয়ের জেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতেও গুম-খুনের বিচারের দাবির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানিয়েছে জোটটি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ জোটের বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর আভাস মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।