জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, “ভেজকটভাবে দেশ চলছে। কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না, কে দেশ চালাচ্ছে। সরকারের মধ্যে আরেকটি সরকার আছে, যা দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
শনিবার বিকেলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সমাবেশে মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি তুলেন। পরে তার বক্তব্য নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
জি এম কাদের বলেন, সরকারি দলও বিভক্ত রয়েছে। “কিছু অংশ সরকারে, কিছু অংশ বাইরে। সরকারি দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, তাদের বক্তব্য সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের মতো বড় দলগুলোও সরকারের সুবিধা ভোগ করছে। ছোট দলগুলোর কথাও উল্লেখ করে বলেন, যারা কখনো নির্বাচনে অংশ নেয়নি বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেনি, তারাও সরকারি সুবিধা পাচ্ছে।
দেশে কার্যত বিরোধী কণ্ঠস্বর নেই বলে উল্লেখ করে কাদের বলেন, “সরকারি দলের বাইরে থাকা দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও রহস্য রয়েছে। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরোধী।”
তিনি জাতীয় পার্টিকে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি উল্লেখ করে বলেন, এ কারণেই দলের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। কাদের বর্তমান সরকারকে “নব্য ফ্যাসিবাদ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের পরিবেশ অনিশ্চিত উল্লেখ করে কাদের বলেন, “এই সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সব বিভাগের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। অবাধ নির্বাচন করতে হলে সকলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।”
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন এবং মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।