রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, দেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে টেলিটককে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখাই প্রয়োজন।
রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, টেলিটক না থাকলে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলো সেবার মূল্য ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রাষ্ট্রীয় অপারেটর হিসেবে টেলিটকের উপস্থিতি বাজারের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
টেলিটকের উন্নয়নে নতুন টাওয়ার ও অর্থায়নের পরিকল্পনা
মন্ত্রী বলেন, টেলিটকের সেবার মান উন্নত করতে আরও টেলিকম টাওয়ার স্থাপন প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অব্যবহৃত ডেটা ও কলড্রপ নিয়ে সরকারের উদ্বেগ
সংসদে মোবাইল ইন্টারনেট প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডেটা বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। যদিও অপারেটরগুলো তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা উল্লেখ করেছে, তবুও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।
একই সঙ্গে কলড্রপ সমস্যার সমাধানেও অপারেটরদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
বিটিআরসির সম্মানী নিয়ে অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস
সংসদে বিটিআরসির কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সম্মানী প্রদানের অভিযোগ উত্থাপিত হলে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য পরে সংসদকে জানানো হবে।
জরাজীর্ণ ডাকঘর সংস্কারে পর্যায়ক্রমে কাজ
ডাকঘরের অবকাঠামোগত দুরবস্থার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৯ হাজারেরও বেশি ডাকঘর রয়েছে, যার অধিকাংশই জরাজীর্ণ। একসঙ্গে সবগুলো সংস্কার করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের ডিজিটাল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস এবং জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।