জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সীমান্তে ভারতের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকার কার্যকর অবস্থান নিচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত তৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণ ও বিজিবি একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।
শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১–দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানানো হয়।
তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি
সমাবেশে শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে আর কোনো বিলম্ব বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে তাঁদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে নাহিদ ইসলামের মন্তব্য
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে নির্ধারিত হবে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে সরকারকে ভারতের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
চীন সফর ও রংপুরের উন্নয়ন নিয়েও সমালোচনা
নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সমালোচনা করে দাবি করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। এবারের জাতীয় বাজেটেও এ অঞ্চলের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ সরকারি দলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেওয়া হচ্ছে, যা জনগণের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ।
সমাবেশে বিভিন্ন দলের নেতাদের অংশগ্রহণ
১১–দলীয় ঐক্যের এ সমাবেশে এলডিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে সীমান্ত নিরাপত্তা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, গণভোটের বাস্তবায়ন এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রতি বিভিন্ন দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।