ঢাকা: রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক কর্মকৌশল নিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দলীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কৌশল নির্ধারণ
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। সে কারণে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রের ধারণা।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা
দলীয় অঙ্গনে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক সংকটকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বিভিন্ন মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন।
এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত
এর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি নির্দলীয় প্রার্থী দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং তা সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসারেই হবে।
দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ শুধু আনুষ্ঠানিক নয়; সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান সাংবিধানিক বাস্তবতা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
দলীয় সূত্রগুলোর মতে, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
বৈঠকে থাকবে আরও যেসব বিষয়
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
দলীয় সূত্র বলছে, আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।