শনিবার ১ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের একক অবস্থান, জোটে বাড়ছে আলোচনা  ফেরার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ, ভরসা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইস্যুতে আজ বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক   প্রধানমন্ত্রী দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন, জানালেন মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে প্রবেশমুখে পুলিশের বাধায় আটকে গেল এনসিপির গাড়িবহর  আগস্টেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে বুধবার এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ, থাকবেন নাহিদ ইসলাম  রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আগের বা পরের অভিযোগে মামলা করা যাবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?   বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলা অজ্ঞতার পরিচয়: মির্জা ফখরুল 

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের একক অবস্থান, জোটে বাড়ছে আলোচনা 

আগস্ট 1, 2026
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের একক অবস্থান, জোটে বাড়ছে আলোচনা 

ঢাকা: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১–দলীয় ঐক্যের ভেতরে কৌশলগত মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেওয়া এই জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটগত সমঝোতার পরিবর্তে এককভাবে অংশ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। অন্যদিকে জোটের কয়েকটি দল এখনো সমন্বিত নির্বাচনী কৌশলের পক্ষে এবং বিকল্প রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। 

স্থানীয় নির্বাচনকে শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে দলগুলো 

নির্বাচন কমিশন অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এরই মধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই হবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনভিত্তি যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

জামায়াতের অবস্থান: স্থানীয় নির্বাচন দলীয় শক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র 

জামায়াতের নেতারা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পদে কেন্দ্রীয়ভাবে আসন সমঝোতা বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রতিটি দলকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত। 

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে সমঝোতা করতেই দীর্ঘ সময় লেগেছিল। স্থানীয় সরকারের হাজারো পদে একই ধরনের সমঝোতা কার্যকর হবে না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন হলে দলীয়ভাবে সমঝোতায় কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি জানান। 

শরিক দলগুলোর বিকল্প পরিকল্পনা 

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে গেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস নতুন সমঝোতার পথ খুঁজতে পারে। এ আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। 

শরিক দলগুলোর মতে, স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক জোটভুক্ত দলের শক্তিশালী অবস্থান থাকলে একাধিক প্রার্থী দিলে ভোট বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তাই নির্বাচনী সমন্বয় প্রয়োজন। 

জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী অসন্তোষের প্রভাব 

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে কয়েকটি শরিক দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে খেলাফত মজলিস প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে দলটি ১১–দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে নিজেদের দূরে রাখার সিদ্ধান্তও জানায়। 

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে তারা হয় এককভাবে নির্বাচন করবে, অথবা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নতুন সমঝোতার চেষ্টা করবে। 

এনসিপির অবস্থান 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) নিজস্ব প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, আপাতত দলটি এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়ানোর কাজ করছে। 

তবে গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রয়োজন হলে নির্বাচনের আগে বা পরে সমঝোতার সুযোগও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না দলটি। 

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়নি। 

তফসিল ঘোষণার পর পরিষ্কার হবে চিত্র 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ১১–দলীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ কৌশল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটবদ্ধ নির্বাচন হবে নাকি স্থানীয় বাস্তবতায় দলগুলো আলাদা পথে হাঁটবে—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়টি আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন