সোমবার ২ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
ইরানে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষোভ, বিশ্বশান্তির আহ্বান  সামনের চাকা সরকারি, পেছনের চাকা বিরোধী: জামায়াত আমিরের তুলনামূলক বক্তব্য  ৫ আগস্ট ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি অনেক কিছু গোপন রেখেছেন: জামায়াত আমির  অভিজ্ঞ ও নবীনদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটি  বিএনপি নেতাদের হাতে ছয় সিটির প্রশাসনের দায়িত্ব  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তুতি, সারজিস হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপি কমিটি  আওয়ামী লীগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইনের পথেই: মির্জা ফখরুল  মনোনয়নবঞ্চিত কাইয়ুম চৌধুরীর নতুন দায়িত্ব সিলেট সিটির প্রশাসক  তেজগাঁও অফিসে এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় তারেক রহমানের  মার্চের মাঝামাঝি সংসদের প্রথম অধিবেশন, ইঙ্গিত সালাহউদ্দিনের 

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা কার্যক্রম শুরু

আগস্ট 4, 2025
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা কার্যক্রম শুরু

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের এক বছর পর এই মামলার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-পুনর্গঠিত হয় এবং একই মাসে এই মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

২০২৪ সালের ১২ মে তদন্ত সংস্থা মামলায় তিনজন আসামি—শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। ১ জুন থেকে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক রয়েছেন, আর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতিমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন এবং রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২ জুলাই আদালত অবমাননার মামলায় তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া গুম-খুন, নির্যাতন এবং হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও দুটি মামলা চলছে।

বিচার কার্যক্রমের সূচনায় রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যেখানে মাত্র ৩৬ দিনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গু ও দুই হাজারের বেশি নিহত হয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি একনায়ক হিসেবে সব সিদ্ধান্ত নিতেন এবং তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা তাঁর আদেশ বাস্তবায়নে নিয়োজিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা বজায় রাখা।

প্রথম সাক্ষী হিসেবে যাত্রাবাড়ীর মাইক্রোবাস চালক খোকন চন্দ্র বর্মণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জানান, গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনের সময় তিনি পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। তাঁর চোখ, নাক ও মুখে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ফলে চিকিৎসার জন্য তিনি রাশিয়ায় গেছেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান, ওবায়দুল কাদের, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও শামীম ওসমানসহ অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী এবং তাদের বিচার দাবি করেন।

সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমির হোসেন, যিনি অভিযোগের প্রমাণ জানতে চান এবং ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর আক্রমণের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে খোকন চন্দ্র বর্মণ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন