লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সূচনালগ্নে তিনি প্রথম ‘উই রিভল্ট’ বলে বিদ্রোহ ঘোষণা না করলে বিদ্রোহই হতো না।
তিনি আরও বলেন, “আমি বিদ্রোহ না করলে তখন কিন্তু বিদ্রোহ হতো না। উনি (জিয়াউর রহমান) ছিলেনই না। উনি অনুপস্থিত ছিলেন, উনি চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। ওনাকে যদি ফিরিয়ে না আনতাম, কয়েক মিনিট পর ওনাকে মেরে কর্ণফুলীতে ফেলে দিত।”
বুধবার বিকেলে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন অলি আহমদ। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি জামায়াত আমির শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে এক নির্বাচনী সভায় বলেছিলেন যে, অলি আহমদ সবার আগে ‘উই রিভল্ট’ বলে চিৎকার দিয়েছিলেন এবং জিয়াউর রহমানকে হাত ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হলে অলি আহমদ বুধবার তার ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, “জামায়াত আমির বলেছিলেন, ‘উই রিভল্ট’ কর্নেল অলি বলেছিল। এটা নিয়ে অনেকের গায়ে জ্বলন ধরেছিল। জিয়াউর রহমান নিজেই এসিআরে (অ্যানুয়াল কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট) এ বিষয়ে বলে গিয়েছিলেন।”
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “তোমাদের গাত্রদাহ কেন হচ্ছে? এই ডকুমেন্টগুলো তো আর্কাইভ করা আছে।… আমার ঘরে আসো, অরিজিনাল এসিআর তো আমি রেখে দিয়েছি। বিনা পয়সায় দেখিয়ে দেব।”
অলি আহমদ মন্তব্য করেন, মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পার হলেও জিয়াউর রহমানের শাসনামল ছাড়া অন্য কোনো সময়ে দলীয়করণ বন্ধ ছিল না।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে সংস্কার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনার বাপ (জিয়াউর রহমান) পুরো পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা ঘোষণা করে, আপনার মা (খালেদা জিয়া) প্রসিদ্ধ হয়েছিল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করে। সুতরাং আপনিও প্রসিদ্ধ হয়ে যান সংস্কারগুলো করে। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এছাড়া মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ জামায়াতের বিভিন্ন নেতা ও অন্যান্য বক্তা সভায় অংশ নেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কর্নেল অলি আহমদ মুক্তিযুদ্ধে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।