যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ক্ষোভের পেছনে তার নিজের হার্ভার্ডে ভর্তি না হওয়ার ঘটনাই মূল কারণ হতে পারে—এমন দাবি করেছেন ট্রাম্পের জীবনীকার মাইকেল ওলফ।
দ্য ডেইলি বিস্টের এক পডকাস্টে মাইকেল ওলফ বলেন, “ট্রাম্প যা কিছু করেন, তার পেছনে অতিরিক্ত পরিকল্পনা থাকে না, তবে তিনি হার্ভার্ডে ভর্তি হতে পারেননি। তাই আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ লুকানো নয়।”
আইভি লিগ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীন ও নামকরা আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ, যাদের মধ্যে হার্ভার্ড অন্যতম। যদিও ট্রাম্প হার্ভার্ডে ভর্তি হননি, তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।
তবে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র মাইকেল ওলফের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে বলেছেন, “ট্রাম্প একজন সফল ব্যবসায়ী এবং ইতিহাসের অন্যতম পরিবর্তনকারী প্রেসিডেন্ট। তাই হার্ভার্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হওয়ার কারণে তার কোনো ক্ষোভ থাকার দরকার নেই।”
সরকারি কোনো নথি বা রেকর্ড নেই যা প্রমাণ করে ট্রাম্প ১৯৬০-এর দশকে হার্ভার্ডে আবেদন করেছিলেন। এই বিষয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) এর সনদ বাতিল করে, যার ফলে প্রায় ৬৮০০ বিদেশি শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হার্ভার্ড একটি মামলা করেছে এবং এটিকে আইন ও বাক্স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিসট্রিক্ট জাজ অ্যালিসন বোরোগস এই সিদ্ধান্তের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প হার্ভার্ডকে বরাদ্দকৃত ফেডারেল তহবিল ২২০ কোটি ডলারের বেশি স্থগিত করেন এবং করছাড় সুবিধাও বাতিল করেন। পাশাপাশি বিদেশি ছাত্র ভর্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এই সব পদক্ষেপের কারণে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ তীব্র হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।