জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত ছয় মাসে শৃঙ্খলাভঙ্গ, নৈতিক স্খলন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম—রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য।
দলটি আত্মপ্রকাশের দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, গত ২১ এপ্রিল, যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে জেলা প্রশাসক নিয়োগে তদবির ও এনসিটিবির বই ছাপায় কমিশন–বাণিজ্যের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে স্থায়ী বহিষ্কারের কারণ দর্শাতে বলা হয়। এরপর থেকে তিনি আর দলে সক্রিয় নন।
সর্বশেষ ৫ আগস্ট কক্সবাজার সফরের ঘটনায় পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে শোকজ করা হয়, যাদের মধ্যে চারজন রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য—মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহকেও নোটিশ দেওয়া হয়। সবাই জবাব দিলেও পরবর্তী সিদ্ধান্ত দল জানায়নি। নাসীর ও হাসনাত তাদের জবাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নোটিশকে ভিত্তিহীন ও বিধিবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন।
মে মাসে পুলিশের আটক তিনজনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার ঘটনায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে শোকজ করা হয়। তিনি ভুল স্বীকার করায় নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়।
এছাড়া নৈতিক স্খলনের অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম, জনকণ্ঠ কার্যালয়ে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, এবং সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহীর যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলামকে শোকজ করা হয়। মাদারীপুরে ছাত্রনেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জেলা ও সদর উপজেলা কমিটি স্থগিতসহ দুই নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল-আমিন জানান, সব অভিযোগে তদন্ত হয়েছে এবং যেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে সেখানে সাময়িক বহিষ্কার, কমিটি বাতিল, সতর্কতা ও তিরস্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে।