ইসলামী আন্দোলনের নেতা ও হাদিস শিক্ষক মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন। তবে দলীয় এবং জাতীয় প্রয়োজনে প্রয়োজন হলে নির্বাচনে অংশ নেবেন। আসন হিসেবে তিনি তিনটি স্থানের কথা চিন্তা করছেন—ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর), ঢাকা-৭ (লালবাগ), এবং বাগেরহাট-১, যেখানে তার পারিবারিক সম্পর্ক ও নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।
মোহাম্মদপুরে সরাসরি দলের কর্মী বাহিনী সীমিত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা কার্যক্রম ও আলেম সমাজের তৎপরতার কারণে গণসম্পৃক্ততা রয়েছে। নির্বাচনে জোটবদ্ধ বা এককভাবে অংশ নিলেও ভালো ফলাফলের আশা করা যায়।
বিএনপির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি, যদিও শোনা যায় দল তাকে মোহাম্মদপুরের আসন থেকে ছাড় দিতে চাইছে। তিনি বলেছেন, বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে প্রয়োজনে কথা হয়, সর্বশেষ বেশ কিছুদিন আগে।
জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা করার আলোচনা চলছে। তবে সব দল একযোগে জোট হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি জোটবদ্ধ নির্বাচনে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পার্থক্য রয়েছে মাওলানা মওদুদি ও দেওবন্দি ধারার আলেমদের চিন্তাধারার মধ্যে। তবে দেশের স্বার্থে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামপন্থীদের ভূমিকাকে তিনি আদর্শিক ও দেশের স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। ইসলাম এক হলেও রাজনৈতিক দল ভিন্ন হতে পারে এবং বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইসলামিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব, যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তা চায়।
সংসদে নির্বাচিত হলে তার প্রথম তিনটি আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার হবে: কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন বাতিল করা, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা, এবং বিচারব্যবস্থায় কোরআনভিত্তিক দণ্ডবিধি কার্যকর করা।
রাজনীতিতে তার অবস্থানকে তিনি ইসলামিক জ্ঞান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখান। তিনি মনে করেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ইসলামপন্থী আলেমদের প্রতি আচরণে পার্থক্য রয়েছে। বিএনপি দক্ষিণপন্থার ওপর ভিত্তি করে রাজনীতি করছে, তবে পুরোপুরি নয়।
শাপলা চত্বরে তার অংশগ্রহণকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সোনারগাঁওয়ের ঘটনা ব্যক্তিগতভাবে দুঃখজনক হলেও তা তার নেতৃত্বের প্রমাণ। স্ত্রী এখনও তার পাশে রয়েছেন।
একাধিক বিয়ে নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি কুসংস্কার মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন, ইসলামে বৈধ হওয়ায় সম-অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব।
৫ আগস্টের ঘটনা নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার সুযোগ তৈরি করেছে, মব-ঘটনাকে তিনি কিছুটা স্যাবোটাজ ও ব্যক্তির আইন নিজের হাতে নেওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখেছেন।
হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেবে না। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে হেফাজতের অনেক নেতা রাজনীতিতে সক্রিয়। বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে সখ্য স্থাপনের চেষ্টা করছে।
নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাবকে তিনি বৈষম্যমূলক মনে করেন। নারী যথেষ্ট যোগ্য এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্থানে যেতে পারে।
ভবিষ্যতের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনবে, তবে সব সংকট সমাধান হবে না। তিনি মনে করেন, বিএনপি কখনো আওয়ামী লীগের মতো দমন-পীড়ন করবে না এবং ইসলামপন্থীদের সহযোগিতা নিয়ে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে।