সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বহিষ্কৃত মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৪০ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ দুই বছর পর এই নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা দলীয় ঐক্য জোরদারের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁরা লিখিত আবেদন করলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, “বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েও তাঁরা দলকে এগিয়ে নিতে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা অনুতপ্ত হয়ে দলীয় ফোরামে আবেদন করেছেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারপ্রাপ্ত নেতাদের তালিকা
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:
- ১ নম্বর ওয়ার্ড: সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মুফতি কমর উদ্দীন (কামু)
- ২ নম্বর ওয়ার্ড: নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ
- ৩ নম্বর ওয়ার্ড: মিজানুর রহমান (মিঠু)
- ৫ নম্বর ওয়ার্ড: মো. কামাল মিয়া, খালেদ আকবর চৌধুরী, আমিনুর রহমান খোকন, শাহেদ সিরাজ
- ৬ নম্বর ওয়ার্ড: ফরহাদ চৌধুরী (শামীম)
- ১০ নম্বর ওয়ার্ড: মো. সাঈদুর রহমান (জুবের)
- ১১ নম্বর ওয়ার্ড: আবদুর রহিম (মতছির)
- ১৪ নম্বর ওয়ার্ড: নজরুল ইসলাম (মুনিম)
- ১৫ নম্বর ওয়ার্ড: মো. মুজিবুর রহমান
- ১৮ নম্বর ওয়ার্ড: এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, সালমান চৌধুরী শাম্মী
- ২২ নম্বর ওয়ার্ড: বদরুল আজাদ (রানা)
- ২৩ নম্বর ওয়ার্ড: মামুনুর রহমান (মামুন)
- ২৪ নম্বর ওয়ার্ড: হুমায়ুন কবির (সুহিন)
- ২৫ নম্বর ওয়ার্ড: রুকশানা বেগম শাহনাজ
- ২৬ নম্বর ওয়ার্ড: সেলিম আহমদ (রনি)
- ২৮ নম্বর ওয়ার্ড: আলী আব্বাস
- ২৯ নম্বর ওয়ার্ড: গোলাম মোস্তফা কামাল, সাহেদ খান (স্বপন)
- ৩০ নম্বর ওয়ার্ড: জাবেদ আমিন সেলিম, রাজু মিয়া, সানর মিয়া
- ৩১ নম্বর ওয়ার্ড: মো. আবদুল মুকিত
- ৩২ নম্বর ওয়ার্ড: হেদায়েত হোসেন তানভীর, দুলাল আহমদ
- ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড: গউছ উদ্দিন (পাখী), দেলওয়ার হোসেন (নাদিম)
- ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড: দিলওয়ার হোসেন (জয়)
- ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড: উসমান হারুন (পনির)
- ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড: আলতাফ হোসেন (সুমন)
- ৪০ নম্বর ওয়ার্ড: আবদুল হাছিব
- ৪২ নম্বর ওয়ার্ড: সুমন আহমদ সিকদার
সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে: সালেহা কবির (শেলী) (২২, ২৩, ২৪ নম্বর), রুহেনা বেগম (মুক্তা) ও জহুরা জেসমিন (১০, ১১, ১২ নম্বর), কামরুন নাহার (পিন্নি) (১৬, ১৭, ১৮ নম্বর)।
ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দলের স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে।