আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য সারা দেশে মোট ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮,৭৪৬টিকে ‘লাল’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে পুলিশ।
ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি — ২,৬৭৫টি (প্রায় ২৬%)। সিলেটে সবচেয়ে কম — মাত্র ৪৫৭টি।
পুলিশের তিন রঙের শ্রেণিবিভাগ
- লাল (অতি ঝুঁকিপূর্ণ) → ৮,৭৪৬টি
- হলুদ (ঝুঁকিপূর্ণ) → ১৬,৩৫৯টি
- সবুজ (সাধারণ) → ১৭,৬৫৬টি
ঝুঁকি নির্ধারণের মানদণ্ড:
- ভোটার সংখ্যা
- থানা থেকে দূরত্ব
- কোন দলের আধিপত্য
- দুর্গম/পাহাড়ি/চরাঞ্চল
অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনা
- লাল কেন্দ্রে: ৩ জন পুলিশ + ১৩ জন আনসার
- হলুদ কেন্দ্রে: ২ জন পুলিশ
- সবুজ কেন্দ্রে: ১ জন পুলিশ
প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে থাকবে:
- অস্ত্র
- বডি ওর্ন ক্যামেরা (৮ ঘণ্টা লাইভ রেকর্ডিং)
- শতভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি
এছাড়া: সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, কোস্টগার্ড — সবাই মাঠে থাকবে।
ঢাকা বিভাগে কেন এত বেশি ঝুঁকি?
পুলিশের ভাষ্য: গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী — এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের পুরোনো আধিপত্য ছিল। নিষিদ্ধ দলের নেতা-কর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করতে পারেন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা:
- মুন্সিগঞ্জ → ২৭২টি
- কিশোরগঞ্জ → ২৪৩টি
- নরসিংদী → ২৩৭টি
- মাদারীপুর → ২২৪টি
পুলিশের ‘ক্লিন ইমেজ’ অভিযান
- লটারিতে ৬৪ জেলায় নতুন এসপি
- নির্বাচনের আগে সব থানার ওসি বদলি
- দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণ (ইতোমধ্যে ৬০ হাজার শেষ)
- অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোর অভিযান
ডিআইজি রেজাউল করিম: “সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সরকারের নির্দেশে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিআইজি: “এবারের সরকার দলীয় সরকার নয়। কারও পক্ষে কাজ করার কোনো চাপ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
আজ বৃহস্পতিবার ইসি আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ সব বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ফেব্রুয়ারির ভোট যত এগোচ্ছে — নিরাপত্তার ব্যূহ ততই শক্ত হচ্ছে। প্রশ্ন একটাই: এবার কি সত্যিই ‘রাতের ভোট’ ও ‘ডামি নির্বাচনের’ অধ্যায় শেষ হবে?