সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির পেছনে মূল কারণ ছিল চালকের অদক্ষতা ও ত্রুটিযুক্ত যানবাহন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফেরি প্রস্তুত না থাকলেও বাসটি হঠাৎ চলতে শুরু করে এবং চালক সেটির নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
রোববার দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তন–এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সেখানে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বাসডুবিসহ জেলার বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ৬২ জনের পরিবারকে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, তদন্তে দেখা গেছে বাসটি ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিল এবং ফেরি তখনও ল্যান্ড করেনি। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি চলার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বাসটি সামনে এগিয়ে যায় এবং চালক নিয়ন্ত্রণ হারান।
ফেরিঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পন্টুনের প্রতিরক্ষাবেষ্টনী আরও উঁচু করার দাবি ওঠে। এ বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, পুরোনো নকশায় পন্টুনে গাড়ি সুরক্ষার জন্য আলাদা বেষ্টনী রাখা হয়নি, কারণ তখন ধারণা ছিল যানবাহন সরাসরি ফেরিতে উঠবে। তবে তিনি ঘাট ব্যবস্থাপনায় কিছু অব্যবস্থাপনার বিষয়ও স্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে চালকের অসচেতনতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন। একই সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল এবং আন্তজেলা এসি ও নন-এসি বাসের প্রতিযোগিতামূলক চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তাঁর মতে, এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চোখ পরীক্ষা, রক্তচাপ ও মাদকাসক্তি শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রশিদ, যিনি বলেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শোক কোনো অর্থেই পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে এই সহায়তা রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
এ সময় আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি তুলে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প সেতু বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আফরোজা পারভীন, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং পরিবহন খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি।