জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দলের সঙ্গে আর সম্পৃক্ত থাকা সম্ভব নয় বলে পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যরাতে তাঁর বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত ৩ মার্চ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সতর্ক করার পরও তিনি পুনরায় দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, যা দলের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে তাঁকে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে বিকেলে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে সর্দার আমিরুল ইসলাম লিখেছিলেন, এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি দলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনকেন্দ্রিক ডানপন্থী জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক উৎসাহ কমিয়ে দেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন–পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থার প্রভাব বাড়তে দেখেছেন। এ কারণে গত দুই মাস তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিষ্ক্রিয় রেখেছিলেন এবং পদত্যাগপত্রও জমা দিয়েছিলেন। যদিও দলের এক শীর্ষ নেতা তাঁকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
আমিরুল ইসলামের ভাষ্য, এনসিপি যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমান কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দলীয় কৌশল ও নীতির সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় তাঁর পক্ষে দলে থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সর্দার আমিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। তাঁর ছোট ভাই শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।