‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন’—সাংবাদিকদের প্রতি নির্ভীক হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়।
শুক্রবার মুন্সিগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারি এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক রুকন সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
“অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না। বুক টান করে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলবেন। সেই কালো যদি আমার কাছেও কিছু পান, আমাকেও ছাড়বেন না,”—সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, একটি দেশের গণমাধ্যম যদি স্বাধীনভাবে ও দৃঢ় অবস্থানে থেকে কাজ করতে পারে, তাহলে সেখানে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা সহজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। সংবাদমাধ্যম শুধু তথ্য পরিবেশনই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমানের ভাষায়, “আমরা একসঙ্গে লড়াই করে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নানা ধরনের ঝুঁকি ও হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, সমাজের চারপাশের বাস্তবতা সাংবাদিকরা সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেন, কিন্তু সব সময় সব সত্য প্রকাশের সুযোগ পান না।
বিচারব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমান বিচার পাবে।
“বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না—আমরা সেই বাংলাদেশ চাই,” বলেন তিনি।
বাজেট ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান দাবি করেন, বিভিন্ন খাতে কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “৫০-৬০টি খাতে কর কমানো হলো, কিন্তু বাজারে কোনো নিত্যপণ্যের দাম কি এক টাকা কমেছে?”
তাঁর অভিযোগ, বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটগুলো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে টিকে আছে। রাজনৈতিক সমর্থন না থাকলে এসব সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব টিকে থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারকে সময় দেওয়া যেতে পারে, তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়।
“সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে মানুষের জীবনে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ শান্তি ফিরে আসবে,” বলেন জামায়াত আমির।
রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, যে রাজনৈতিক দল নিজেদের কর্মীদের সামাজিক অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়, তাদের দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জাতীয় সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সেখানে থাকার যৌক্তিকতা নিয়েও ভাবতে হবে।