বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিএনপি-চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নতুন অধ্যায়, সই হলো সমঝোতা স্মারক  রাজনীতির দুই মঞ্চে দুই বার্তা, কী চায় জামায়াত?  বাণিজ্য ভারসাম্যে বড় চাপ: চীনের পর ভারতের সঙ্গেও ঘাটতি বাড়ছে   আগামীকাল ঢাকায় ১১ দলের মহাসমাবেশ, রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তাপ  দেশের পরিবর্তনে আরেক বিপ্লবের ইঙ্গিত জামায়াত আমিরের   রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরল বিআইজিডি   ‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন’—সাংবাদিকদের প্রতি জামায়াত আমিরের আহ্বান   বিশ্বকাপে প্রিয় দলের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে? সম্ভাব্য সময় জানালেন মন্ত্রী   লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, আটক তিন বিক্ষোভকারী  

রাজনীতির দুই মঞ্চে দুই বার্তা, কী চায় জামায়াত? 

জুন 25, 2026
রাজনীতির দুই মঞ্চে দুই বার্তা, কী চায় জামায়াত? 

প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করার কৌশল নিয়েছে। দলটি শুধু সংসদীয় বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে রাজপথের কর্মসূচি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং আইনি লড়াই—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় রয়েছে। 

সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে জামায়াত। বাজেট, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলটির সংসদ সদস্যরা নিয়মিত বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন। এ সময় তারা চারবার ওয়াকআউটও করেছে। 

তবে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় নতুন হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে দলটির সংসদ সদস্যদের বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। দলটির নেতারা স্বীকার করেছেন, অধিকাংশ সদস্য প্রথমবার সংসদে যাওয়ায় সংসদীয় কার্যপ্রণালি ও বক্তব্য উপস্থাপনায় কিছু ত্রুটি দেখা গেছে। এসব বিষয়ে দলীয়ভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

রাজপথে অব্যাহত কর্মসূচি 

সংসদে সক্রিয়তার পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াত। নির্বাচনের পর গত চার মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোট। 

দলটির প্রধান রাজনৈতিক দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত হত্যা এবং ভারতের ‘পুশ ইন’ ইস্যুও তাদের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। 

জামায়াতের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সংঘাতের চেয়ে ধারাবাহিক রাজনৈতিক চাপ ও জনমত গঠন অধিক কার্যকর হতে পারে। সে কারণেই দলটি আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। 

স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের বর্তমান কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করার পর এখন দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। 

এ লক্ষ্যে দলীয় প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও কিছু এলাকায় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অভ্যন্তরীণ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, দলটি ইতোমধ্যে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং দুটি জেলা কমিটি বিলুপ্ত করেছে। 

দলটির নেতাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমর্থনকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ দিতে সদস্য সংগ্রহ, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং নিয়মিত কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। 

আদালতেও সক্রিয় ভূমিকা 

সংসদ ও রাজপথের পাশাপাশি আইনি লড়াইকেও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। যদিও এসব মামলার শুনানি এখনো শুরু হয়নি, তবুও দলটি বিষয়টিকে সাংবিধানিক অধিকারের অংশ হিসেবে দেখছে। 

তিন লক্ষ্য সামনে রেখে অগ্রযাত্রা 

সাম্প্রতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলের তিনটি মূল লক্ষ্য রয়েছে—সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভাবমূর্তি গড়ে তোলা, মাঠের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণের জন্য সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। 

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে সংযত অবস্থান ও রাজপথে সক্রিয় আন্দোলনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলেই জামায়াত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারবে। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন দলটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন