জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশে আর ‘স্টান্টবাজির রাজনীতি’ চলবে না এবং ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীরাই তা প্রমাণ করেছে। তিনি দাবি করেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা হারাচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির পদযাত্রায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে এনসিপি দেশব্যাপী মাসব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করছে।
শিক্ষা খাতে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার নকল রোধের কথা বললেও বাস্তবে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বন্যাকবলিত এলাকায় হাঁটু কিংবা বুকসমান পানি পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। এছাড়া একটি প্রশ্নপত্রে দুটি সৃজনশীল প্রশ্নে ভুল থাকায় পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি নিয়ে সমালোচনা
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। তাঁর দাবি, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির সংস্কৃতি দীর্ঘদিন টিকবে না এবং জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে আবারও সোচ্চার হতে পারে বলে সতর্ক করেন।
বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যার সময় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের পাশে না থেকে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিপুল রাজস্ব আদায় হওয়া সত্ত্বেও দুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল।
সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিজেই প্রচলিত সংবিধানের বাইরের পরিস্থিতির ফল। তাই সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জনগণ শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক ব্যবস্থারও পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছিল।
মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সরকারকে কটাক্ষ
নারায়ণগঞ্জের কর্মসূচি শেষে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আরেকটি পথসভায় বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি বলেন, “পালিয়ে যাবে না বলে যে পালিয়ে যায়, সে ‘আসি আসি’ বলে আর কোনো দিন ফিরে আসে না।”
তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের বাইরে অবস্থান করলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কোনো বাস্তব চিন্তা নেই।
নির্বাচন ও জনগণের আস্থা প্রসঙ্গ
সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের স্বার্থের চেয়ে নির্বাচনী স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে জনগণের সঙ্গে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যে সরকার নির্বাচনের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনাতেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি কোনো ধরনের অবহেলা করা উচিত হবে না।
এনসিপির এই কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। দলটির পক্ষ থেকে গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।