শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ:
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের একক অবস্থান, জোটে বাড়ছে আলোচনা  ফেরার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ, ভরসা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইস্যুতে আজ বসছে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক   প্রধানমন্ত্রী দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন, জানালেন মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে প্রবেশমুখে পুলিশের বাধায় আটকে গেল এনসিপির গাড়িবহর  আগস্টেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল   হবিগঞ্জে বুধবার এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ, থাকবেন নাহিদ ইসলাম  রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আগের বা পরের অভিযোগে মামলা করা যাবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?   বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বলা অজ্ঞতার পরিচয়: মির্জা ফখরুল 

জামায়াতের ‘নতুন বাংলাদেশ’ ভাবনা, প্রকাশ নীতিগত রূপরেখা 

জানুয়ারি 20, 2026
জামায়াতের ‘নতুন বাংলাদেশ’ ভাবনা, প্রকাশ নীতিগত রূপরেখা 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা প্রকাশ করেছে। 

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে জামায়াত আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬–এ এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলের আমির শফিকুর রহমান। সম্মেলনে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক মর্যাদাকে রাষ্ট্রীয় আলোচনার কেন্দ্রে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। 

শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক আয়োজন নয়, বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে টিকে থাকা নয়, স্থিতিশীলতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষিত তরুণেরা শিক্ষা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না, নারীরা কাঠামোগত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, আর কঠোর পরিশ্রম করেও কোটি কোটি মানুষ সামান্য সংকটে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন। 

শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাফল্যের মানদণ্ড হতে পারে না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন এমন হওয়া উচিত যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার চালাতে পারে এবং সমাজে অর্থবহ অংশগ্রহণ করতে পারে। 

প্রবাসীদের ভূমিকা ও অবদান জামায়াত আমির বলেন, লাখো প্রবাসী শ্রমিক তাদের শ্রম, ত্যাগ ও রেমিট্যান্স দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখছেন এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের অবদান শুধু অর্থে সীমাবদ্ধ নয়—তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশে আরও বড় ভূমিকা রাখার আগ্রহ রয়েছে। 

একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী—শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা—আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের অনেকেই দেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ দেওয়া ও সংস্কারে সহায়তা করতে প্রস্তুত। 

অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন শফিকুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থানকে বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। অনানুষ্ঠানিক শ্রমকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি। 

নারীর অংশগ্রহণ ও কাঠামোগত সংস্কার তিনি বলেন, নারীর পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। 

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ ৩০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, এই পলিসি সামিটের মাধ্যমে জামায়াত দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংলাপের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায়। 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on print

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও পড়ুন