অধ্যাপক আলী রীয়াজ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি, বলেছেন যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৈঠকে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দলগুলোর নিজস্ব। কমিশন শুধু একটি “অনুঘটক” বা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে আবারও আলোচনায় বসবে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের শেষ দিনের বৈঠকের শুরুতেই তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জুলাই সনদের খসড়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সংশোধনী আনা হচ্ছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত সনদ প্রস্তুত করে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সনদের ভিত্তিতে একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
আলী রীয়াজ ব্যাখ্যা করেন, সনদটি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত থাকবে—এক অংশে ঐকমত্যের বিষয়গুলো এবং অপর অংশে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো স্থান পাবে।
আজকের আলোচনায় যেসব বিষয় উঠে আসে তার মধ্যে রয়েছে: সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, সংসদ সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ক্ষমতা, ইলেকটোরাল কলেজ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।
আলী রীয়াজ দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যে সিদ্ধান্তগুলোতে একমত হয়েছেন, তা বাস্তবায়নের পথও নিজেরাই তৈরি করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় কমিশন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের সহায়তা করবে।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় ধাপের আজকের বৈঠকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ছয়টি কমিশনের সুপারিশ সংক্ষেপ দলগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৩টি বিষয়ে ইতোমধ্যে ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে এখনও ভিন্নমত রয়েছে। যেসব বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত হবে, সেখানে ভিন্নমত থাকলে দলগুলো “নোট অব ডিসেন্ট” দিতে পারবে।
আলী রীয়াজ আশা প্রকাশ করেন যে আজকের মধ্যেই আলোচনার এই ধাপের সমাপ্তি টানা সম্ভব হবে এবং ঐকমত্য ও মতভেদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে।
আজকের আলোচনায় অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলনসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল।
বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার। কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান এবং আইয়ুব মিয়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।