১৯৬৯-এর গণ–অভ্যুত্থানের কিংবদন্তি নেতা হিসেবে স্মরণীয় থাকবেন তোফায়েল আহমেদ
প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ বিদায় নিলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা তাঁকে ছাত্ররাজনীতির এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।
তৎকালীন ডাকসুর ভিপি হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম মুখ ছিলেন। গণ–আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি হয়ে ওঠেন ছাত্রসমাজের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন।
শেখ মুজিবুর রহমানের পর সেই সময় সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাধীনতার প্রস্তুতির লক্ষ্যে গড়ে ওঠা গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’-এর কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ‘মুজিব বাহিনী’র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে নিজের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তবে স্বাধীনতা-পরবর্তী নানা বিতর্ক, রক্ষীবাহিনী প্রসঙ্গ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক টানাপোড়েন তাঁর রাজনৈতিক পথচলাকে জটিল করে তোলে।
২০০৭ সালের সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগের ‘সংস্কারপন্থী’ রাজনীতির সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে যায়। পরে শেখ হাসিনা-এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও তিনি আর আগের প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে যেতে পারেননি।
তবু বাংলাদেশের ’৬৯-এর গণ–অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি এবং সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।