আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে পটুয়াখালী-৩ আসনটি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হককে ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে। এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
জেলার চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ইসলামী আন্দোলনও সক্রিয়। দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (জাপা) কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেনি।
পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকী)
- বিএনপি: দলের ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার (কুট্টি) মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনও করেছিল।
- জাপা: সাবেক এমপি এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচন করার আগ্রহ আছে, তবে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকতে হবে।
- জামায়াত: জেলা আমির নাজমুল আহসান প্রথমবারের মতো প্রার্থী।
- অন্যান্য: গণ অধিকার পরিষদের শহিদুল ইসলাম, এনসিপির জহিরুল ইসলাম, এবি পার্টির মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার ও ইসলামী আন্দোলনের আবুল হাসান বোখারী প্রচারণায় আছেন।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল)
- বিএনপি: সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারকে ৪ ডিসেম্বর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মু. মুনির হোসেনের সমর্থকেরা বিক্ষোভ করছেন। উপজেলা আহ্বায়ক আবদুল জব্বার মৃধা বলেন, শহিদুল আলম দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের খোঁজ নেননি।
- জামায়াত: ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম (মাসুদ) প্রার্থী।
- অন্যান্য: ইসলামী আন্দোলনের আবদুল মালেক আনোয়ারী, এনসিপির মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আইউব বিন মুসা প্রচারণায় আছেন।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা)
- বিএনপি: এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হককে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে। গত অক্টোবরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নুরুল হককে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নুরকে এখন আর স্থান দেওয়ার পরিবেশ নেই।”
- নুরুল হক: নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে জোট আলোচনা চলছে। হাসান মামুনের বক্তব্য উত্তেজনামূলক।
- জামায়াত: মু. শাহ আলম প্রার্থী।
- অন্যান্য: ইসলামী আন্দোলনের আবু বকর সিদ্দিক ও যুবদলের সাবেক নেতা মো. শিপলু খান প্রচারণায় আছেন।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী)
- বিএনপি: কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক এ বি এম মোশারেফ হোসেন প্রার্থী। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল নেই, নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।
- ইসলামী আন্দোলন: সাবেক এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান (১৯৯৬-এ বিএনপি থেকে জিতেছিলেন) প্রার্থী। তিনি বলেন, বিএনপি এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন।
- অন্যান্য: জামায়াতের মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম, গণ অধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, আমজনগণ পার্টির ফাতেমা তাসনিম ও বহিষ্কৃত হাবিবুর রহমান প্রচারণায় আছেন।
পটুয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। জোট আলোচনা ও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সম্ভাবনা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করেছে।