‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ’—এই বার্তা সামনে রেখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। দলটির দাবি, জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে থেকে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।
বিতরণ করা লিফলেটে গণভোটের চারটি প্রশ্ন নিয়ে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে গণভোটের ‘খ’ নম্বর প্রশ্নের কিছু অংশ সনদের ১৮ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল আপত্তি জানিয়েছিল।
লিফলেটে আরও বলা হয়, বিএনপি ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে থাকলেও সেটি সংসদে আসনসংখ্যার আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মনে করে। একই সঙ্গে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নয়—এমন উচ্চকক্ষের কাছে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাঠানোর বিরোধিতাও করেছে দলটি।
এতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই সনদের ১৮ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের নোট অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের সমর্থন পেলে তা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।
গণভোটের ‘ক’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ নম্বর প্রশ্নে বিএনপির পূর্ণ সমর্থনের কথাও লিফলেটে তুলে ধরা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি।
ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জুলাই সনদ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ শুধু রাজনৈতিক দলিল নয়, এটি গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার।” তিনি দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিএনপি সবসময় আন্তরিক।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, তরুণ সমাজের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষাবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জুলাই জাতীয় সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।