ঢাকা: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিকল্পনা করে চলেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের নেওয়া উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (এইউএসটি) আয়োজিত সিভিল ডিসকোর্স ন্যাশনালস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ সময় কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন। কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা আরও কার্যকর করা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায় এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করা যায়—এসব বিষয় নিয়েই তিনি অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন।
তিনি জানান, সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
সংকট আছে, তবু আশার জায়গা তরুণরা
দেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। তবে এসব সংকটের মধ্যেও দেশের তরুণ সমাজের উদ্যম, মেধা ও দেশপ্রেম ভবিষ্যতের জন্য বড় আশা তৈরি করেছে।
তার ভাষায়, বাংলাদেশের যুবসমাজ শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো দেশের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, ধারাবাহিক কর্মপরিকল্পনা এবং কার্যকর নেতৃত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে শুরু থেকেই একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
তরুণদের হাতেই দেশের আগামী
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও দেশপ্রেম বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সব বাধা পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-তরুণদের আত্মত্যাগ দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক, গণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শক্তিশালী নেতৃত্ব, কার্যকর পরিকল্পনা এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আশরাফুল হক, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রহমান, অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ ডায়ালগের চেয়ারম্যান রুবাইয়াত মান্নান।