জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশের বিভিন্ন খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে এবার তৃতীয় ধাপের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এই পর্বে মূল ফোকাস থাকবে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে কমিশন আইন, সংবিধান এবং রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা চলবে।
গতকাল (রোববার) জাতীয় সংসদ ভবনের কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
তৃতীয় ধাপে আলোচনার শুরুতেই গুরুত্ব পাবে সনদের বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ। এর আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে যেসব সংস্কার প্রস্তাবে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নের আইনি কাঠামো ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। এতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে— কোন সুপারিশ অধ্যাদেশ জারি করে বাস্তবায়নযোগ্য, আর কোনগুলো সংবিধান সংশোধন ছাড়া সম্ভব নয়।
এর আগে দুই দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
- প্রথম পর্বে (২০ মার্চ–১৯ মে) ৩৩টি দলের সঙ্গে আলাদাভাবে সংলাপ হয়, যেখানে ৬৫টির বেশি বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠে।
- দ্বিতীয় পর্বে (৩ জুন–৩১ জুলাই) ৩০টি দলের সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হয়, যেখানে ১৯টি মৌলিক সংস্কারে ঐকমত্য হয়। এর মধ্যে ৯টিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং ১০টিতে আংশিক ভিন্নমত দেখা যায়।
সনদের খসড়ায় বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনের পরবর্তী দুই বছরে সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকবে। যদিও বিএনপি এ পদ্ধতিকে গ্রহণযোগ্য মনে করলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ কয়েকটি দল চায় সনদটিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে।
ঐকমত্য কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া না হলে অনেক দল সনদে স্বাক্ষর করতে আগ্রহী হবে না। তাই এই ধাপে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি বাস্তবায়ন কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হবে।
কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা চলবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় ধারাতেই—বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যেমন, তেমনি রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গেও। দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে, তা কমিয়ে আনার চেষ্টাও চলবে।
কমিশনের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও দলগুলোর স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে এই তৃতীয় ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমরা যুক্ত করব আইনজ্ঞ, সংবিধানবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। পাশাপাশি দলগুলোকেও কাছাকাছি আনতে হবে।”
এই প্রক্রিয়া চলবে যতদিন না একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান এবং আইনি ভিত্তির ওপর ভিত্তি করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়।