জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। অত সুশীলতা করে লাভ নেই। কারণ, অনেক ধৈর্য ধরা হয়েছে।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় সমাবেশে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন মাহফুজ আলম। সমাবেশটি আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ।
গত শুক্রবার বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছিলেন। পুলিশ মনে করছে, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতেই এ হামলা। চিহ্নিত শুটার ফয়সল করিম মাসুদ (নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা) ও সঙ্গী শেখ আলমগীর ভারতে পলাতক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বৈঠকে সর্বদলীয় প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে আজকের সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ নেতারা অংশ নেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর এটাই মাহফুজ আলমের প্রথম প্রকাশ্য সভা। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর মুজিববাদীদের বাড়ি চুরমার করার ক্ষমতা থাকলেও আমরা সংবরণ করেছিলাম, সেটাই ভুল হয়েছে। এখন আর ক্ষমা করব না।’
ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে সন্ত্রাসের উসকানি দেওয়া হলে আমরা বরদাশত করব না। দেশের লড়াই বাইরে গেলে মুক্তির লড়াইও বাইরে যাবে। আমরা নিরাপদ না থাকলে শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না।’
জুলাইয়ের শক্তিকে গঠনমূলকভাবে শক্তিশালী করতে জেলায় জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলামের গণপ্রতিরোধের ঘোষণা
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, হাদির ওপর হামলা জুলাই বিপ্লব ও বাংলাদেশকে আক্রমণ। আগামীকাল মঙ্গলবার রাস্তায় রাস্তায় ‘প্রতিরোধযাত্রা’ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, মিডিয়া ও আইন অঙ্গনে মুজিববাদ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ চলবে।
ভারতের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল।’ সিইসির ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
হাসনাত আবদুল্লাহর কঠোর বক্তব্য
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভারত বাংলাদেশকে ফিলিস্তিন বানাতে চায়। হামলাকারীদের আশ্রয় দিলে ‘আমরাও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেব’।
তিনি বলেন, ‘নীল দলের পা চাটা শিক্ষকদের ধরে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিতে হবে।’ নাটক-সিনেমা থেকে মুজিবের দালালদের বের করার দাবি জানান।
সমাবেশে জামায়াত, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক, আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, রাশেদ খান প্রমুখ।
হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে এই সমাবেশ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।