ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তিতে “গোলামির চরিত্র” প্রকাশ পেয়েছে। তিনি এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করা যেতে পারে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণ করা হচ্ছে। তিনি সরকারকে দলীয় বিবেচনার বাইরে গিয়ে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে এবং দ্রুত আয়োজন করা প্রয়োজন।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু এটি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন, তাই তাঁর বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখা যায়। তবে ইসলামী আন্দোলন এ বিষয়ে নীরব নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের পর দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হলেও এখন সংগঠন গোছানোর কাজ চলছে।
পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, বিজেপি সরকারের প্রতিনিধিরা মানবিক আচরণ করছেন না। তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান।
সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। উত্তর সিটিতে ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং দক্ষিণে দলের প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফকে প্রার্থী করা হয়েছে।
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম স্পষ্ট করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে অংশ নেবে এবং ১১–দলীয় জোটের সঙ্গে যাবে না।
জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী সমঝোতা থেকে বেরিয়ে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ইসলামী আন্দোলন ইসলামপন্থী দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করেছিল। তবে পরে জামায়াত সেই সমঝোতাকে নিজেদের নেতৃত্বাধীন জোটে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই জামায়াত এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং শরিকদের জন্য আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে।
রেজাউল করীম আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত গোপনে যুক্তরাষ্ট্র, খ্রিষ্টান মিশনারি ও ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে, যা দুই দলের মধ্যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, অতীতে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলনকে জোটে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তাঁদের দল ক্ষমতা, মন্ত্রিত্ব বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাজনীতি করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চরমোনাই পীর বলেন, ইসলাম, দেশ ও মানবতার স্বার্থে যাদের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হবে, ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গেই রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা হবে।
সভায় ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম মহাসচিব ফজলে বারী মাসউদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।