ব্যয় সংকোচনের নীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট–পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এবার বাজেট পাসের পর অনুষ্ঠিত হওয়া নৈশভোজ আয়োজন করা হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো বাজেট–পরবর্তী নৈশভোজ
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় বাজেট পাসের দিন রাতে সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন।
আগের সরকারের ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
অতিরিক্ত প্রেস সচিব দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে বছরে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে প্রতিবছর আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু আপ্যায়ন খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ করলেও আগের সরকারের সময়ের বিপুল পরিমাণ বিল এখনো পরিশোধ হয়নি। বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সেই বকেয়া পরিশোধ করছে।
আপ্যায়ন ব্যয়ে কাটছাঁট
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান আপ্যায়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
বাজেট পাসের পুরো সময় সংসদে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে পৌঁছে অধিবেশনকক্ষে অবস্থান করেন এবং বাজেটের মঞ্জুরি দাবি, ভোট গ্রহণ ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। বিরতির সময়ও তিনি দাপ্তরিক কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস
উল্লেখ্য, ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। মঙ্গলবার বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তির পর জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট পাস হয়।