বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের নেতা-কর্মীদের পেছনে তিনি রাডার লাগিয়ে দিয়েছেন। কেউ বিপথে গেলে তা তিনি জেনে যাবেন এবং কাউকেই ক্ষমা করা হবে না।
আজ সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের রায়পুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় নেহা নদী খননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি চাই, বিএনপি নেতারা যেন ঠিক রাস্তায় চলে। আমি কিন্তু তাদের পেছনে রাডার ফিট করে দিয়েছি। সেই রাডার সব জায়গায় ঘুরছে। কে কী করছে, আমি সব জেনে যাব। কাউকে ক্ষমা করব না। পরিষ্কার কথা, নেতৃত্ব যাবে, আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক দিনাজপুর সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, খাল খননের কাজ চালিয়ে গেলে দেশে পানির সমস্যা থাকত না। বর্তমানে কৃষকরা বৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে গম, ভুট্টা ও আলুর ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় এসে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন।
দেশে ২০ হাজার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিএনপি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, সৎভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে খাল খননের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু নেতা ধর্মের নামে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, “ধর্মটাকে বিক্রি করে কিছু করা যায় না। ধর্ম মানুষের অন্তরের ব্যাপার। দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ ধর্মকে ভালোবাসেন, কিন্তু ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করেন না।”
তেল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কমেছে। একটি পেট্রল পাম্প ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা করে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “কোনো মব তৈরি করতে দেওয়া হবে না। মবকে কঠিন হস্তে দমন করা হবে। গায়ের জোরে, আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করবেন না।”
নেহা নদীর ৫.৮ কিলোমিটার খননকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ।